সম্ভাবনাময় এক নারী ফুটবলার এর গল্প
রংপুর জেলার, সদর থানার অন্তর্গত সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের পালিচড়া গ্রামের সম্ভাবনাময় কিশোরী নুসরাত জাহান বৃষ্টি। তিনি পিতা-মাতা তৃতীয় সন্তান। ফুটবল নিয়ে তার খুবই ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল। তার পিতার ও ফুটবলকে ঘিরে নিজের কন্যাদের নিয়ে নানা স্বপ্ন ছিল। তার পিতার আসা ছেলেমেয়েদেরকে ফুটবলের দক্ষ কারিগর করে গড়ে তুলবেন।
তারই ফলশ্রুতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক "শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ" থেকে উঠে এসেছে এই ফুটবলার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের বয়স ভিত্তিক অনূর্ধ্ব 17 টিমের হয়ে খেলে আসছেন। প্রাথমিক পর্যায়ের সেই খেলায় ভালো পারফর্মেন্স করা 2018 সালে ডাক পান জাতীয় মহিলা দল থেকে। 2018 সালের আগে থেকেই সে এলাকার ক্লাব অনুশীলন করতেন। পরবর্তীতে চলে আসেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে।
জাতীয় দলের বয়স ভিত্তিক কিন্তু অসামান্য কৃতিত্বের সাথে খেলে আসছেন 2008 সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। এই সামান্য সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি খেলেছেন ভুটানের মাটিতে। সেখানেও অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। তিনি বর্তমানের পূর্ব হইতে বর্তমান সময় পর্যন্ত জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের পাশাপাশি নিজ বিভাগ ও নিজ জেলার সবচেয়ে নামকরা ক্লাব "এফসি উত্তর বঙ্গ" ক্লাবের হয়ে খেলে আসছেন। বর্তমান সময়ে চলমান ক্লাব লীগেও তিনি এই ক্লাবের হয়ে খেলে আসছেন। তাদের কোন ভাই নেই, চার বোন মাত্র। সে পিতা মাতা তৃতীয় সন্তান এবং কি তার পাশাপাশি পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান "ইসরাত জাহান রত্না"ও বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের হয়ে খেলে আসছেন 2014 সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। তিনি আসো তিনি অসামান্য কৃতিত্বের সাথে খেলে থাকেন অনূর্ধ্ব 19 এর সিনিয়র টিমের হয়ে। জাতীয় দলের পাশাপাশি তিনি "এফসি উত্তরবঙ্গ" ক্লাবের ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনিও এই স্বল্প ক্যারিয়ার খেলেছেন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বৃষ্টি ও রত্না তারা দুজনই একই পরিবার থেকে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের হয়ে বর্তমানে পর্ব হইতে বর্তমান সময় পর্যন্ত খেলে আসছেন। এরকম ঘটনা খুবই কম লক্ষ্য করা যায়। তাদের মত একই পরিবারের দুই প্রজাতির দলের হয়ে খেলেছেন তাদের প্রতিবেশী গ্রামের রুমি ও জয়নব।
যদিও বর্তমানে ইনজুরির কারণে রুমি জাতীয় দলের বাইরে আছে তাই বৃষ্টির আপনাদের মত একই পরিবারের একাধিক সদস্য একইসাথে আছেন এমন দৃশ্য খুবই কম দৃশ্যমান, নেই বললেই চলে। একটি কথা না বললেই নয় জাতীয় মহিলা দলে সবচাইতে বেশি নারী ফুটবলার ময়মনসিংহ জেলার এবং কি তার পরপরই রয়েছে রংপুর জেলা। খেলোয়ারদের ঠিকানা দেখে মনে এমন মনে হয় যেন ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলাই জাতীয় নারী ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় অভিভাবক। যেমনটি বলছিলাম বৃষ্টি ও তার বোন রত্না এদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ছিল এরা ফুটবলার হবে। অন্তর্দৃষ্টি এর কাছ থেকে জানতে পেরেছি তার পিতাও এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের নিয়ে। তারা বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আসছেন। তারা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত ও পিতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন। কিন্তু তাদের পিতা তাদের এই কৃতিত্ব বেশিদিন দেখে যেতে পারেননি।
এরই মাঝে তিনি চলে যান না ফেরার সেই দেশে। যাইহোক খেলাধুলার মধ্যে দিয়ে সর্বোত্তম কৃতিত্বের মধ্য দিয়ে তাদের পিতার স্বপ্নাকে লালন করে যাবে সারা জীবন এই তাদের প্রত্যাশা। খেলাধুলার মাঝে তাদের পিতাকে এবং কি পিতার স্বপ্ন কে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। তাদের সামনের সবচেয়ে বড় টার্গেট বালক কহিল AFC কাপ খেলা এবং কি বিশ্বকাপ। বৃষ্টি এর উৎপত্তি ব্যক্ত করেছে যে তারা অর্থাৎ বাংলাদেশি নারী ফুটবলার সারা বিশ্বের বুকে মাইলফলক সৃষ্টি করতে চায়। সে চায় সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে অন্যভাবে না চিনলেও যেন ফুটবলের মধ্য দিয়ে এক নামে চিনতে পারে। এমন এক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল কে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। সত্যি কথা না বললেই নয় তাদের মাতা একজন রত্নগর্ভা ও তারা একেকজন রত্নগর্ভা মা এর সন্তান। ক্ষমতা থাকলে হয়তো আমি নিজেই তার মাথাকে রত্নগর্ভা পুরস্কারে ভূষিত করতাম। এমন সৌভাগ্য বা কয়জন মায়ের ভাগ্যে জোটে। তার যে তার দুই সন্তান জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং কি দেশের নাম উজ্জ্বল করার কাজে ব্রতী রয়েছে। একটি কথাই বলবো আমি তোমাদের পাশে আছি, রংপুরবাসী তোমাদের পাশে আছে, সমগ্র বাঙালি জাতি তোমাদের পাশে আছে। তোমরা আলোর শিখা প্রজ্জ্বলন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাও।কোন বাধা তোমাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। এরূপ প্রত্যয়ই দেশবাসীর। অবশেষে বিশ্ববাসীকে বলব আপনারা সবাই এই সম্ভাবনাই রত্নাগর্ভা মায়ের সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন এবং কি তার পিতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করবেন যেন তিনি জান্নাতবাসী হন। এবং কি তার সন্তানরা যেন তার লালিত স্বপ্ন কে আগলে রাখতে পারে ওর সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তারা এরূপ দোয়াপ্রার্থী বিশ্ববাসীর কাছে।
[রিপোর্টার/ক্ষুদে সাংবাদিক::- AR PRINCE]



কোন মন্তব্য নেই