ফেবারিট জেমকোন খোলনাকে হারাল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী
হেভা ফেরদৌস আনিকা সিনিয়র রিপোর্টার:টুর্নামেন্টের ফেভারিট দল খুলনা শক্তি-সামর্থ্যে বিস্তর এগিয়ে থেকে। কিন্তু এখনও সেটির প্রতিফলন নেই মাঠের পারফরম্যান্স। আরিফুল হকের শেষ ওভারের বীরত্বে প্রথম ম্যাচে হারের দুয়ার থেকে জিতেছিল। নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহীর কাছে এবার তারা হেরেই গেল।
জেমকন খুলনাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে বৃহস্পতিবার। বেক্সিমকো ঢাকাকে হারিয়েছিল রাজশাহী আসরের প্রথম ম্যাচে শক্তিতে তুলনামূলক এগিয়ে থাকা। খুলনাকে আবারও উদ্ধার করেন আরিফুল হক মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটিং বিপর্যয়ে।১৪৬ রান খুলনা করতে পারে ২০ ওভারে।সেই রান তাড়ায় রাজশাহীর মোটেও বেগ পেতে হয়নি। তারা ১৬ বল বাকি থাকতে জিতে যায়।
ম্যাচের সেরা অধিনায়ক শান্ত ৩৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে। পরে অবদান রাখেন রনি তালুকদার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও ফজলে মাহমুদ রাব্বিও।
দ্বিতীয় ওভার থেকেই শান্তর ব্যাট অশান্ত হয়ে ওঠে রান তাড়ায়। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান দুর্দান্ত এক ফ্লিকে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন শফিউল ইসলামকে পুল করে বাউন্ডারির পর। টানা দুই বলে মারেন চার-ছক্কা পরের ওভারে আল আমিনকে।
ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন আল আমিনের ওই ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন। তবে চাপে পড়েনি দল। রান আসতেই থাকে শান্তর ব্যাটে, স্বস্তি দেননি খুলনার বোলারদের তিনে নেমে রনি তালুকদারও। বাউন্ডারি মারেন দুজনই সাকিবের এক ওভারে, রনি ছক্কায় ওড়ান মাহমুদউল্লাহকে।
রিশাদ হোসেনকে উইকেট দিয়ে ফেরেন রনি (২০ বলে ২৬) অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে। শান্ত ফিফটি স্পর্শ করেন ৩২ বলে এই লেগ স্পিনারকে ছক্কায় উড়িয়েই। আরেকটি বাউন্ডারি মারের পরের বলেই।
শান্তকে দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করে দেন রিশাদই শেষ পর্যন্ত।
ফেরা হয়নি তবু খুলনার ম্যাচে। রিশাদকে দুটি ছক্কায় উড়িয়ে সরিয়ে দেন চাপের শঙ্কা ফজলে মাহমুদ রাব্বি উইকেটে যাওয়ার পরপরই। রাব্বি বিদায় নেন ১৬ বলে ২৪ করে দুটি করে চার ও ছক্কায়। জয়ের কাছে তখন দল।
রাজশাহীর জয় ধরা দেয় অনায়াসেই মোহাম্মদ আশরাফুলের ২২ বলে অপরাজিত ২৫ আর নুরুল হাসান সোহানের ছক্কায় (৭ বলে ১১*)। রাজশাহীর দাপট ছিল শেষের মতো ম্যাচের শুরুতেও। খুলনার অভিজ্ঞ ওপেনার ইমরুল কায়েসকে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে শরুতে তারা ফেরায়।ইমরুল শূন্য রানে আউট হলেন এই নিয়ে টুর্নামেন্টের দুই ম্যাচেই।
ভালো শুরুটাকে কাজে লাগাতে পারেননি আবার সাকিব আল হাসান। তিনি কাট করে তিন বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন মুকিদুল ইসলামের। এরপরই স্কয়ার লেগে (৯ বলে ১২) পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন । সাকিব ঠিক একই জায়গায় ক্যাচ দিয়েছিলেন আগের ম্যাচেও পুল করে।
শামীম হোসেন পাটোযারি ধুঁকতে থাকা ইনিংসে দম দেন। শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলে চাপ খানিকটা ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষকে বরাবরই ইতিবাচক মানসিকতার এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তরুণ এই বাঁহাতি চোখধাঁধানো কয়েকটি শট খেলেন লেংথ আগেই পড়ার ক্ষমতা ও হাতের জোর মিলিয়ে ।
ইবাদাতের বলে তার ২৫ বলে ৩৫ রানের ৩ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংস শেষ হয়। ৪৯ রানের জুটি ৩৯ বলে আরিফুলের সঙ্গে।
শুরুতে সময় নিয়েছেন ঠিক আগের ম্যাচের মতোই আরিফুল। লড়েছেন টাইমিং পেতে। ১৬ বলে ৯ রান ছিল এক পর্যায়ে। পরে মেহেদিকে স্লগ সুইপে ছক্কায় তার ইনিংসের গতি বদলানোর শুরু। পরে মুকিদুলেরে এক ওভারে মারেন দুটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩১বলে ৪১ রান করে।
শেষ দিকে শহিদুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১৭ রান। তাতে দেড়শর কাছে যেতে পারে খুলনা। কিন্তু রাজশাহীর দাপুটে ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি সেই স্কোর।



কোন মন্তব্য নেই